এমরান মাহমুদ প্রত্যয়
প্রখর রোদ। সারি সারি গাড়ির লাইন। ছুটে চলছে যে যার গন্তব্যে। চার রাস্তার সমাহার। যানজট! এই সমস্যার সমাধান কোন দিন নিরসন হবে কিনা জানা নেই। বাসের জানালার পাশে বসে প্রকৃতির প্রখরতা দেখছিল শুভ,
আর ভাবছিল এই দেশের রাস্তা ঘাট আর মানুষের অবস্থা। বাস দঁাড়িয়ে আছে কিছুক্ষণ পর পর বঁাশির শব্দ আর কিছু চালক সুইচ অফ করে ঘুমিয়ে পরেছে কি অবস্থা এখনকার যানবাহনে। শুভ দেখছে আর কি ভাবছে শুধু তারই জানা। রাস্তার অদূরে চোখ পড়তেই বিষন্নতায় ভরে গেল শুভর আবেগী মন।
প্রখর রোদে রাস্তার পাশে দঁাড়িয়ে ফুলের মালা হাতে একটি মেয়ে, ছলছল চোখে কর“নার গম্ভীর গলায় সাহেব- আপুদের ডাকাডাকি করছে। দু’একটি ফুলের মালা বিক্রয়ের জন্য। আজকের সমাজের মানুষ, ফুলের মূল্যটা বুঝে না, ফুল কেনার চেয়ে নেশা ভোগের আনন্দটা তাদের কাছে অধিক প্রিয়। তবে দু’একজন ছাড়া।
এরকম কি কেউ নেই, একটি ফুলের মালা ক্রয় করার মত। ছোট মেয়েটির পোষাক ঘামে ভেজা। মেয়েটি মনে হয় তার পিছনের দিকে চোখ মেলিয়ে তাকিয়ে দেখছে, সে কতটা অসহায়। বিবর্ণ রূপের মাঝে ফুটে আছে দ্বীন-দারিদ্রতার ছাপ।
মনে হয় অনেক দিনের শুকনো ঠেঁাটে অপরিবর্তনশীল হাসতে মোটেই জানে না। হাসবে কি করে? স্বয়ং খোদা তাদের জীবনের রঙিন স্বপ্ন আর ছোট ছোট আশা গুলো বিবর্ণ কালি দিয়ে মুছে দিয়েছেন।
আর সবকিছু কেড়ে সুখী করেছেন বড় বড় দালান কোঠার সেই কোট প্যান্ট পড়ার ভদ্র বেশী…? পরের উপকারে তারা কোন দিন এগিয়ে আসে না। নজর অসৎ পথে কাল টাকার পাহাড় গড়ার।
তারা ইচ্ছে করলেই এই সব অসহায় জীবনের মূল্যায়ন ঘটাতে পারে, কিন্তু না এটা তদের নেই। এই জন্য হয় তো এখন পর্যন্ত একটি মালাও বিক্রি হয় নি। আর কতক্ষণ! সময় তো বসে থাকে না। মনে হয় মেয়েটি বাড়ি যাবার জন্য তার মনটা সর্বদা ব্যাকুল।
চারিদিকে বিচিত্র পৃথিবীর রূপ ও রং এর শ্বশানচারী ভাবটা তার চোখের কোনে দিয়েছে এক বিন্দু জলকণা, বড় কষ্টেও তা বেরিয়ে আসতে চায় না। চোখের ভাবমূর্তিটা কোন এক ভাস্কর্যের গড়া অসহনীয় দেবমূর্তি। কান্না অস্ফুট, আজ আর তার পেটে দেব অর্চনা হবে না।
আমার কষ্টটা ঠিক ঐখানে যেখানে নিয়মের প্রতি অনিয়মের অনিহা। আসলে বাস্তবটা বড় জটিল। এই বয়সে যাদের হাতে থাকবে বই, কলম, খাতা, কিন্তু তার পরিবর্তে হাতে ফুলের মালা, নয়তো তার সমান উঁচু পাস্টিকের বস্তা।
এ দিয়ে কি জীবন চলে। সেগুলোও তাদের দিতে পারে না সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে বঁাচার আশ্বাস। মেয়েটি ধীর পায়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে পা আগলিয়ে চলছে।
ঠিকানা বিহীন কোন ভ্রান্ত পথিকের পথ ভ্রান্ত আর্তনাদ নিয়ে। পথ দেখিয়ে দেবার মত কেউ নেই। এদের পথ দেখানোর কেউ থাকে না।
হয়তো ভাবছে পৃথিবীতে জন্ম নেওয়াটাই যেন আজন্ম পাপ। নিজের সকল কষ্টকে বিধাতার ওপর সপে দিয়ে বিষন্ন মনে পথ চলছে। কিভাবে চলবে জীবনের এতটা পথ। জীবনতো মুক্ত বিহদনে ফোটা ফুল নয়, নয় কোন শিল্পীর কল্পনার তুলিতে আঁকা প্রতিচ্ছবি।
যা কল্পনার রং দিয়ে ইচ্ছে মত রাঙানো যায়। জীবন হচ্ছে সারা রাতে ঝড়ে পড়া ভোরের ম্ান হওয়া এক বিন্দু শিশির, যার মুখে কখনো হাসি, কখনো শুকিয়ে যাবার হাহাকার। মেয়েটি বড় অসহায় আর ক্ষুধার্থ, কিছুটা ক্লান্ত। কি করে এতটা পথ চলবে?
এ চলার শেষই বা কোথায়? ভাবনায় ভাবনায় কেটে যায় শুভর বেশ কিছু সময়। চোখের সামনে থেকে হারিয়ে যায় সেই ফুলওয়ালা মেয়েটি। যানজট ও ছুটে গেছে রাস্তা থেকে। বাস চলছে দ্র“ত বেগে গন্তব্যের সীমারেখায়।
শুভ আবারও ভাবে একটু আগের সেই দৃশ্যগুলো। মিলাতে পারেনা জীবনের হিসাব। কিছু কিছু স্মৃতি আজীবন হৃদয়ে দাগ কাটে।
আবার হারিয়ে যায় সময়ের টানে, ব্যস্ততার চাপে। শুভ জানে তার জীবন সমদেব্য। লিখাপড়া শেষ করে চাকুরির পেছনে ছুটে শুভ। অনেক আশা ছিল বাবা-মার স্বপ্ন পূরণ করবে। তাদের সুখের অংশীদার হবে।
সরকারি চাকুরি না হলেও একটি প্রাইভেট ফার্মে চাকুরি হয় শুভর। ভাল মাইনে পায়। সুখের আশায় একটু পথ চলা, এর মাঝে পরিচয় হয় নিঝুমের সাথে। শহরের মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে নিঝুম।
দু’জনার প্রথম দেখাতেই ভালবাসার বীজ বুনে যায় দু’জনার মন ও হৃদয়ে। শহরের মেয়ে তাই একটু দুরত্ব রাখতে চায় শুভ। কিন্তু প্রেম ভালবাসা কি মানে এতসব। একই মহলায় থাকা আর নিঝুমদের পাশের বাসা তাই ইচ্ছে করেই নিঝুম গায়ে পড়ে কথা বলতো শুভর সাথে।
এই একটু কথাবার্তা, চোখে চোখে চোখাচোখি থেকে সৃষ্ট প্রেম তারপর ভালবাসা। দু’জনার ভালবাসায় কোন পাপ ছিল না। ছুটির দিনে তারা ঘুরে বেরিয়েছে শহরের এ প্রান্ত থেকে সেই প্রান্ত পর্যন্ত। খেয়েছে আইসক্রিম, চটপটি, ফুসকা আর ঘুরে বেরিয়েছে পার্কের নির্জন জায়গাগুলোতে।
নিঝুমের পরিবারও মেনে নিয়েছে শুভকে। সময় যায় তার ধারায় একদিন দু’জন বসে গল্প করছিল পার্কের সবুজ ঘাসের ওপর, একটি মেয়ে কয়েকটি ফুলের মালা হাতে নিয়ে কাছে এসে বলছে সাহেব একটা মালা নেন, আমার নিজ হাতের তৈরী, মালা দেখেন এখনো তাজা গন্ধ,
নেন না একটি বকুল ফুলের মালা। শুভ ভাবছে মেয়েটিকে দেখে। আদর করে কাছে ডেকে একটা পঞ্চাশ টাকার নোট দিয়ে বলল একটি মালা তোমার আপুকে দাও আর এটা তোমার বকশিশ।
এক রাশ হাসি মুখে একটি মালা হাতে দিয়ে চলে গেল মেয়েটি। মেয়েটি অদৃশ্য হবার সাথে নিঝুম শুভর কোলে মাথা রেখে বলল, আমাদের বিয়ের পর আমি গ্রামে থাকবো আর তোমার জন্য শিশিরে ধোয়।
ফুল দিয়ে প্রতিদিন মালা গেঁথে রাখবো শুধু তোমার জন্য। শুভ কথা দাও আমার এই ভালবাসার স্বপ্নঘেরা স্মৃতিগুলো কখনো শেষ হতে দেবে না। পিজ শুভ আমাকে কষ্ট দিও না।
আমি যে তোমার দেওয়া কষ্ট সহ্য করতে পারবো না। কথাগুলো বলতেই অশ্র“তে ভরে ওঠে নিঝুমের আঁখিযুগল। শুভ শান্তনা দেয়। আমি যে তোমাকে ছাড়া কিছু ভাবতে পারি না, তুমি আমার শুধু আমার।
এমন করে হাসি আনন্দের মাঝে কেটে যায় দীর্ঘ সময়। শুভ সব সময় হাসি খুশি থাকে। নিজের কষ্টের ভাগ দিতে চায় না কাউকে। হাসির ছটা থাকলেও হৃদয়ে তার এক সমুদ্র কষ্ট, আঁখিতে কষ্টের লোনাজল মৃত্যু তার হাতের নাগালে।
শুভ ভাবে এই ক্ষনস্থায়ী জীবনের কথা। কাল ডাক্তার কত সহজে বলে দিল, আপনার আয়ু আর মাত্র তিন মাস। আপনার মাথার টিউমারটা এখন শেষ পর্যায়ে আপনার বিশ্রামের প্রয়োজন। কথাগুলো শুনে হাসে শুভ।
ভাবে বাবামায়ের আদর ্েলহ। নিঝুমের ভালবাসা। এখন কি করবে শুভ এই জীবন সন্ধিক্ষনে। এটা কি করে বলবে নিঝুমকে। সেতো …। না আর ভাবতে পারে না শুভ। জীবনের সাথে যুদ্ধ করে, কিভাবে চলবে এদিন টুকু।
সময় অল্প গন্তব্য বহুদূর। তারপরও এভাবেই কেটে যাচ্ছে তার অখন্ড দিন এবং রাত্রিগুলো তার ছন্নছাড়া জীবনে প্রথম প্রেমের কাপুন নিয়ে আসে নিঝুম নামের সেই মেয়েটি। তার কি দোষ, নিঝুম পারবে কি তাকে ক্ষমা করতে।
মাথার ব্যাথাটা বারে শুভর, বেশ কয়েক দিন পর দেখা দুজনার। তা গায়ে মাখে না শুভ। নিঝুম শুভর এমন আচরনের খুব কষ্ট পায়। তা বুঝে শুভ। এছাড়া তার কি করার আছে। শুভ ভাবে কষ্ট হলেও ওসব যখন জানতে পারবে।
তখন দুঃখকে সাথী করে, সুখ খুঁজতে চেষ্টা করবে নিঝুম। আস্তে আস্তে সব ভুলে যাবে। এরকম ভাবতে দেখে নিঝুম বলে শুভ কি হয়েছে তোমার এমন বিষন্নভাবে কি যেন ভাবছো আমাকে বলা যায় না।
তোমার কষ্টের ভাগ আমাকে দেওয়া যায় না। শুভ ভাবে এখানে আর বেশিক্ষন থাকা ঠিক হবে না। হঠাৎ মুখ ফসকে যদি সত্য কথাটা বেরিয়ে যায়। তাহলে নিঝুম যে অনেক কষ্ট পাবে। না আমি তাকে কষ্ট দিতে পারবো না। কাউকে কিছু না বলে চাকরিটা রিজাইন দিয়ে চুপি স্বরে শুভ বেরিয়ে পরে রাস্তায়।
সোজা বাসস্ট্যান্ডে তারপর কল্পনার চাদরে পুরোনো স্মৃতি আর অতীতের হাতছানি। শুভ যখন বাড়ি পৌছে তখন রাত। কোন খবর না দিয়ে আসাতে আর অনেকটা শুকিয়ে যাওয়াতে মা-বাবা দুজনই চিন্তিত।
আজ খুব সকালে ঘুম থেকে জেগেছে শুভ। অনেকদিন পর পাখির কিচির-মিচির শব্দে মন মাতুয়ারা। শিশির ভেজা ঘাসের ওপর দিয়ে হাটছে শুভ আর সকালের ্িলগ্ধ হাওয়া প্রাণ ভরে অনুভব করছে। দু’এক জন পরিচিত মানুষের সাথে কুশল বিনিময়।
এভাবে বেশ কিছু দিন কেটে গেল শুভ জানে তার আয়ু আর বেশি দিন নেই। সকলের অগোচরে চলে যাবে এই পৃথিবী থেকে হয়তো কেউ জানবেই না। শুভ ভাবে নিঝুম কি করছে এখন ভাবছে কি? আমাকে না এ কয়েক দিনে আমাকে ভুলে গেছে।
না অতীত আর মনে করতে চায় না শুভ। আজ দু’দিন হয় মাথার ব্যাথাটা বেড়েছে। না আর সহ্য করতে পারছে না শুভ। কষ্ট করেও থাকতে পারছে না। হয়তো মৃত্যু খুবই নিকটে। শুভ মা বলে চিৎকার করতেই, ছুটে আসে তারা শুভর কাছে।
এতক্ষনে লুটিয়ে পড়েছে শুভ। বাবা-মায়ের আত্মচিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসেছে। শুভকে নিয়ে ছুটছে হাসতাপালের দিকে রাস্তা যেন শেষ হয় না। যখন হাসপাতালে পৌছে তখন সব শেষ। মৃত বলে ঘোষনা করে ডাক্তার শুভকে। বিশ্বাস করতে পারে না মা-বাবা,
প্রতিবেশীরা শুভ ছিল তাদের চোখের মনি। বাবা-মা শোকে পাথর। একমাত্র বোন ভাইয়ের লাশের পাশে। সন্তান শোকে পাথর বাবা-মা।
আজ হঠাৎই কেমন যেন লাগছে নিঝুমের। নিজেও জানে না তার মনের খবর। মানুষ এতটা নিষ্ঠুর হতে পারে ভেবে পায় না। আর কেন-ই বা এমন করলো শুভ। নিঝুম আজও জানতে পারে নি।
কি এমন অপরাধ, কেন এমনটি হল তার জীবনে। নিঝুম অনেক কেঁদেছে শুভকে হারিয়ে। অফিসে গিয়েও ঠিকানা পায় নি নিঝুম। শুভকে কিভাবে খুঁজে বের করবে, আর কি কোনদিনই দেখা হবে না দু’জনার।
নিঝুম ডুকরে কেঁদে ওঠে। শুভর দেওয়া উপহার গুলি নতুন করে দেখতে থাকে নিঝুম। আর ভাবে শুভ তোমাকে ছাড়া আমি বঁাচবো না। হঠাৎ একটি ছোট কাগজে ঠিকানা দেখতে পায় নিঝুম, শুভর গ্রামের বাড়ির ঠিকানা। নতুন করে বঁাচার স্বপ্ন দেখে।
একটি ছোট ব্যাগ গুছিয়ে গ্রামের বাড়িতে রওনা দেয় নিঝুম। একটাই চিন্তা কখন শুভকে দু’নয়ন ভরে দেখবে আজ এত দিন পর। ভাবতেই নয়ন বেয়ে গরিয়ে পড়লো দু'ফোটা অশ্র“ আবার ভাবতে ভালও লাগছে গ্রামের প্রকৃতি দেখার ইচ্ছায়। গ্রামের সর“ রাস্তা দিয়ে যেতে একজনকে জিজ্ঞেস করতেই দেখিয়ে দিল শুভর বাড়ি।
তুমি কে মা? শুভর মা জানতে চাইলো নিঝুমের কাছে। চোখেল পানি ছলছল করছে তার। যেন এক্ষুণি ঝরে পড়বে বৃষ্টির মত।
-আমি নিঝুম। শুভর কাছে এসেছি। শুভ কোথায় ওকে দেখছিনা কোথায় গেছে ও? নিজুমের এমন আকুতি ভরা কর“ন কথা শুনে কেঁদে ফেললেন তিনি। শুভতো নেই মা, ও তো চলে গেছে অনেক আগেই।
এ কি শুনছে নিঝুম। শুভ নেই। শুভ চলে গেছে এ পৃথিবী ছেড়ে। না, এ হতে পারে না শুভ আমাকে ছেড়ে চলে যেতে পারে না। আর চেপে রাখা গেল না চোখের জল। পৃথিবীর সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও চোখের জলকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না কেউ।
বড় অবাধ্য এ জিনিসটি। না! কঁাদা যাবে না। কি ভাববে ওরা, ওড়নার আঁচল দিয়ে চোখ দুটি মুছে নিল নিঝুম।
পিছন ফিরে তাকাল নিঝুম। দঁাড়িয়ে আছে শুভর মা। নিঝুম জড়িয়ে ধরল তাকে। কিছুই বলতে পারছে না মুখে। সব ভাষা আটকে যাচ্ছে কেন?
শুভর মা নিঝুমকে নিয়ে গেল শুভর ঘরে, নিঝুম ঘরটা ভাল করে দেখে। ভাবে এই ঘরে বউ সেজে তার আসার কথা ছিল। কিন্তু না! তা আর ভাগ্যে হল না। আপু শুভর বোন লুপার ডাকে চেতনা হয় নিঝুমের।
লুপা বলে আপু ভাইয়া মৃত্যুর আগে বলেছিল যদি নিঝুম নামে কেউ আসে তার খঁুজে তবে যেন আমি তাকে এই চিঠিটা দেই।
নীল খামে ভরা একটা ছোট্ট চিঠি।
পাশের দিকে চোখ পড়ল নিঝুমের। একটি বকুল ফুলের গাছ। ফুলে ফুলে ভরা গাছটি। কত না স্বপ্ন ছিল নিঝুমের।
সঁা সঁা করে ছুটে চলেছে গাড়ি। সূর্যটা পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে। এক্ষুণি ডুবে যাবে হয়তো সূর্যটা। জানালার পাশে বসে আছে নিঝুম। ঝরঝর করে গড়িয়ে পড়ল চোখের জল। বাসি ফুলের মালা গঁাথা হল না আর। তারপর বের করল শুভর দেওয়া চিঠিটা।
নিঝুম,
আমার প্রতি তোমার ভালোবাস যদি তোমাকে কখনও টেনে নিয়ে আসে আমাদের বাড়িতে। হয়তো তখন এ চিঠিটা তুমি পাবে। তখন আমি থাকব তোমার থেকে অনেক দূরে।
ক্ষমা করে দিও আমাকে। তোমার ভালবাসার কোন মূল্যই দিতে পারলাম না, যেটুকু ব্যাথা দিয়ে গেলাম পারলে ভুলে যেও। আমাকে আশীর্বাদ না কর, অভিশাপ দিও না পিজ। এ জীবনে নাইবা পেলাম তোমাকে দেখা, পর জনমে যেখানেই থাক তোমাকে ঠিকই খুঁজে নিব আমি।
আমি যখন মারা যাব তুমি আমার কবরে যাবে কঁাদবে না শুধু প্রার্থনা করবে। এবং বলবে আমি তোমাকে আজও ভালবাসি। সুখী হও। ভাল থেকো। পারলে আমাকে ভুলে যেও। নতুন করে জীবন সাজাও।
ইতি শুভ
আরো কয়েক ফোটা অশ্র“ গড়িয়ে পড়ল নিঝুমের চোখ থেকে। বাহিরের দিকে তাকাল নিঝুম। আবছা আঁধারে ছেয়ে গেছে আকাশ। গাঢ় আধারের সাথে মিল খুঁজে পায় জীবনের। একটি বাসি ফুলের মালার মত।
গল্প সম্পর্কে
বাসি ফুলের মালা একটি গভীর ও মর্মস্পর্শী রূপক। এটি সাধারণত অতীতের সুন্দর কিন্তু বিবর্ণ স্মৃতি, হারানো ভালোবাসা বা সময়ের সাথে ম্লান হয়ে যাওয়া অনুভূতি করে।
সম্ভাব্য অর্থ:প্রেমের স্মৃতি: ফুলের মালা যেমন সময়ের সাথে শুকিয়ে যায়, তেমনি কোনো সম্পর্ক বা ভালোবাসার স্মৃতি ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যেতে পারে,
কিন্তু তার গন্ধ (অনুভূতি) থেকে যায়।বিষাদ বা বিচ্ছেদ: বাসি ফুল হারানো সুখের প্রতীক,
আর “মালা” হলো সেই স্মৃতিগুলো যেগুলো হৃদয়ে জড়িয়ে আছে।
অস্তিত্বের নশ্বরতা: ফুলের নশ্বরতা মানুষের জীবনের ক্ষণস্থায়িত্বের ইঙ্গিত দিতে পারে।
আমাদের সম্পর্কে
স্বাগতম “শিরোনাম সাহিত্য”-এ — আমার হৃদয়ের ক্যানভাসে।
এই ব্লগটি আমার স্বপ্ন, ভাবনা আর সৃজনশীলতার একটি আড্ডাখানা।
এখানে বাংলা সাহিত্যের রঙে মুখর হয়ে ওঠে কবিতা, গল্প আর জীবনের ছোট ছোট মুহূর্ত।
আমি একজন গল্পকার, কবি এবং বাংলা ভাষার একনিষ্ঠ প্রেমিক।
“শিরোনাম সাহিত্য” আমার সেই প্রয়াস, যেখানে শব্দ দিয়ে গড়ে তুলি আবেগ, চিন্তা আর কল্পনার জগৎ।
এখানে পাবেন হৃদয় ছোঁয়া কবিতা, জীবনের গল্প, আর সাধারণ মুহূর্তের অসাধারণ রূপ।
আমার লক্ষ্য:
বাংলা ভাষার প্রেমীদের জন্য একটি আশ্রয় তৈরি করা।
যেখানে শব্দের জাদুতে আমরা সবাই হারিয়ে যেতে পারি।
অনেক সুন্দর মননশীল চর্চা