এমরান মাহমুদ প্রত্যয়
আশা তার পরিবারের অমতে বিয়ে করে শুভকে। ভালবাসা মানুষের জীবনে এক স্বর্গীয় অনুভূতি। কখন কার মনে কি ভাবে প্রেম আসে কেউ জানতে পারে না। মন এক, এমন কখন কার সাথে গেঁেথ যায় তা কেউ বুঝতে পারে না।
প্রেম মানে না কোন বঁাধা ধারে না কারো ধার। শুভকে আশার বাবা-মা মেয়ের জামাই হিসেবে মেনে নিতে পারে না। কারণ শুভ গরিব। ভালবাসায় নেইতো কোন ধনি গরিবের ভেদাভেদ। নেই জাত কুলের প্রশ্ন।
ভালবাসা, ভালবাসায়। আশা তার জীবনের চাইতেও বেশি ভালবাসে আর বিশ্বাস করে শুভকে। তাই তো শুধু ভালবাসার টানে সকল বন্ধন ছেড়ে শুভকে সাথী করেছে চিরদিনের জন্য। শুভও খুব ভালবাসে আশাকে।
আশার ভালবাসায় শুভর বেঁচে থাকার এক মাত্র ভরসা। শুভর মা ছেলের বউ হিসাবে মেনে নিতে পারেনি আশাকে। আশাও জানে না। আর জানার জন্য চেষ্টাও করে না।
আশা ভাবে কি নেই তার চেহারা যোগ্যতা কিন্তু তার জীবনের সাথে কেন এমন হয়। তারপরও সংসারে একটু আধটু মান অভিমান, আর কিছু মানসিক নির্যাতন মুখ বুজে সহ্য করে। শুধু শুভর ভালবাসায়। আশা সব দুঃখ কষ্ট ভুলে যায় শুভর একটু আদরে। আশা ভাবে ভালবাসা মানুষকে সুখী করে আবার কষ্টের সাগরে ভাসিয়ে দেয়।
সে আরো জানে ও বুঝে, যে কাজ সে করেছে। তার জন্যে সে হয়তো কোনোদিনই ক্ষমা পাবে না। হয়তো আর কোন দিনই ফিরে পাবে না অতীতের সেই দিনগুলি।
অনেক সুখী জীবন আশার তারপরেও কেমন যেন একা একা মনে হয়। কোন কষ্ট মনে রেখে আশা জীবনকে অসুখী করতে চাই না। শুভর ভালবাসায় সিক্ত আশা। জীবনকে আরো সুখী ও সুন্দর করতে তারা দুজন কোন রাগ অভিমানকে প্রশ্রয় দেয় না। দুঃখ, কষ্ট রাগ অভিমান থাকার পরও আশা অনেক সুখী।

একটি বছর কেটে গেল চোখের পলকে। আশা তেমন কোন খবর জানে না তার মা-বাবার। তাদের কথা মনে হলে আশা বালিশে মুখ গুজে অনেকক্ষন কঁাদে। একা আনমনে। বাবা-মা ও কোন খবর নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেনি। যাকে বেশি ভালবাসা যায় সে বেশি আঘাত করে এটাই বাস্তব।
আশার জন্য ওর বাবার বুকের ব্যাথাটা বেড়ে যায়। সময় চলে তার গতিতে। একদিন স্টোক করে আশার বাবা হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায়। সেই থেকে আরো বেশি ঘৃণা করে তার পরিবার আশাকে।
আশা নিজেকে সর্বদা অপরাধী মনে করে। উঠানে দঁাড়িয়ে আনমনে ভাবে আকাশ পানে চেয়ে। বাবা মৃত্যুতে অনেক ভেঙ্গে পড়ে। সব স্বপ্ন ফিঁকে হয়ে যায়। সে ভেবেছিল যত রাগ কর“ক বাবা এক দিন সব মেনে নিবে। কিন্তু বিধি বাম হয়তো ঈশ্বর যা করেন মঙ্গলের জন্য করেন।
একটি খারাপ স্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙ্গে যায় আশার। খুব ইচ্ছে করে মা কে দেখতে। এপাশ ওপাশ করে নির্ঘুমে কাটিয়ে দেয় রাতটি। মনটা ভীষণ খারাপ সকালবেলা। মিষ্টি রোদ একটু ভাল লাগে।
দিন মাস করে কেটে যায় বেশ কয়েকটি বছর কালের আবর্তে। কর্মব্যস্ত শুভ। তারপরও বিশ্বাস আর ভালবাসায় উৎদিপ্ত তারা। প্রতিনিয়ত স্বপ্ন দেখে জীবনের।
আশার কষ্ট শুধু একটি। অনেক চেষ্টার পরেও আশা শুভকে একটি সন্তান দিতে পারে নি। শুনতে পারে নি সন্তানের মুখে মা ডাক। এ নিয়ে কোন ঝামেলা করে নি শুভ। ডাক্তার, কবিরাজ অনেক করেছে। কোন লাভ হয় নি।
নীরবে নিভৃতে অনেক কেঁদেছে আশা, চেয়েছে খোদার দরবারে। তার একটু সুখের আশ্রয়।বাসের সিটে এক সাথে আসতে পরিচয় হয় অর“নার সাথে। হালকা পাতলা স্বামী থাকে প্রবাসে। পাশাপাশি গ্রামে দুজনার পরিবার।
পরিচয়ের সূত্র ধরে বড় আপু সম্বোধন করে অর“না আশাকে। অল্প সময়ে দুই পরিবারে একটি যোগসূত্র তৈরী হয়। হয় আত্মীয়তার বন্ধন। কখনো ভাবেনি আশার জীবনটা এমন হবে। এর মধ্যে অনেক কথা রটে যায় অর“না আর শুভর। নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারে না আশা।
সবকিছু মেনে নেওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকে না আশার। অর“নার সাথে শুভর পরকীয়া। পুর“ষ শাসিত সমাজ। সত্য মিথ্যা অনেক কিছু দেখেও না দেখার শুনেও না শোনার ভান করতে হয়।
এক নিমিষে আশার এত দিনের সব স্বপ্ন, বিশ্বাস, আশা-ভালবাসা। এক কালবৈশাখী ঝড়ে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। হঠাৎ-ই মনের আকাশে কালো মেঘ জমে। হৃদয়ে জমে পাহাড় সমান ব্যাথা। এক একটি ভুল আজীবন কপালে কাল দাগ একে দেয়। আশা ভাবে হয়তো এরই নাম জীবন।
সব কিছু মেনে নেয়, কারণ সন্তান না হবার যন্ত্রণায় নিঃস্পৃহ আশা। এত ভালবাসার পরেও যদি এমন হয়। কি দিয়ে মিটাবে মনের জ্বালা। পৃথিবীতে কাকে বিশ্বাস করবে। যাকে বিশ্বাস করে যার হাত ধরে জন্মের বন্ধন ছিন্ন করে চলে এসেছিল। সে যদি………….?
না আর ভাবতে পারে না আশা। একটি স্কুল, ছোট ছোট কচি কাচা শিশুদের পড়িয়ে একটু সুখ খোঁজার বৃথা চেষ্টা করে। তাদের মুখ দেখে সব কিছু ভুলে থাকতে চাই।
ভাবে আনমনে, একা, একাকী, খুঁজে একটি জীবনের গল্পের প্রতিচ্ছবি।
গল্প সম্পর্কে
এই শিরোনামটি খুবই কাব্যিক এবং রহস্যময়! মনে হচ্ছে এটি একটি গভীর, আবেগঘন বা ব্যক্তিগত গল্পের ইঙ্গিত দিচ্ছে।একটি আত্মজীবনী, উপন্যাস, বা কবিতার সংকলন
যা জীবনের খণ্ডখণ্ড মুহূর্ত, অনুভূতি বা অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা।একটি জীবনের গল্প কেবল ঘটনাপ্রবাহের বিবরণ নয়
, এটি একজন মানুষের ভেতরের জগত, তার বিশ্বাস, মূল্যবোধ এবং জীবনদর্শনকে তুলে ধরে। এটি পাঠককে অনুপ্রাণিত করতে পারে, তাদের নিজেদের জীবনের অর্থ খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে।
আমাদের সম্পর্কে
স্বাগতম “শিরোনাম সাহিত্য”-এ — আমার হৃদয়ের ক্যানভাসে।
এই ব্লগটি আমার স্বপ্ন, ভাবনা আর সৃজনশীলতার একটি আড্ডাখানা।
এখানে বাংলা সাহিত্যের রঙে মুখর হয়ে ওঠে কবিতা, গল্প আর জীবনের ছোট ছোট মুহূর্ত।
আমি একজন গল্পকার, কবি এবং বাংলা ভাষার একনিষ্ঠ প্রেমিক।
“শিরোনাম সাহিত্য” আমার সেই প্রয়াস, যেখানে শব্দ দিয়ে গড়ে তুলি আবেগ, চিন্তা আর কল্পনার জগৎ।
এখানে পাবেন হৃদয় ছোঁয়া কবিতা, জীবনের গল্প, আর সাধারণ মুহূর্তের অসাধারণ রূপ।
আমার লক্ষ্য:
বাংলা ভাষার প্রেমীদের জন্য একটি আশ্রয় তৈরি করা।
যেখানে শব্দের জাদুতে আমরা সবাই হারিয়ে যেতে পারি।
লেখকে অসংখ্য ধন্যবাদ এমন গল্প আমাদের মাঝে উপহার দেওয়ার জন্য আশা করি আগামীতে আমাদের অনেক সুন্দর সুন্দর নেশা করতে পারে যেন ভালোবাসা রইলো আপনার প্রতি সুস্থ থাকুন সুন্দর থাকুন 💙❤️